গর্ভাবস্থায় পিঠে ব্যথা একটি সাধারণ সমস্যা, এবং এটি নানা শারীরিক পরিবর্তনের কারণে হতে পারে:
১. হরমোনাল পরিবর্তন: গর্ভাবস্থায় রিল্যাকসিন নামক হরমোনের পরিমাণ বৃদ্ধি পায়, যা মাংসপেশী এবং জয়েন্টগুলোকে শিথিল করে, বিশেষ করে পেলভিক অঞ্চলকে। এই শিথিলতা পিঠে অস্থিতিশীলতা এবং ব্যথার সৃষ্টি করতে পারে [1]
২. ওজন বৃদ্ধি: গর্ভাবস্থায় বিশেষ করে পেটের এলাকায় অতিরিক্ত ওজন বৃদ্ধি হয়, যার ফলে শরীরের ভারসাম্য পরিবর্তিত হয়। এই ভারসাম্য পরিবর্তনের কারণে পিঠে চাপ পড়ে এবং ব্যথা হতে পারে [2]
৩. দেহভঙ্গি পরিবর্তন: গর্ভস্থ সন্তানের জন্য শরীরের ভঙ্গি পরিবর্তিত হয়, যা প্রায়ই পিঠের অংশে অতিরিক্ত চাপ সৃষ্টি করে [3]
৪. মাংসপেশী বিচ্ছেদ (ডায়াস্টেসিস রেকটি): গর্ভাবস্থায় পেটের পেশীগুলির মধ্যে বিচ্ছেদ ঘটে, যা পিঠে অতিরিক্ত চাপ সৃষ্টি করে এবং ব্যথা বাড়াতে পারে [4]
গর্ভাবস্থায় মেরুদণ্ডের পরিবর্তন
গর্ভাবস্থায় পিঠের ব্যথা মোকাবিলায় কিছু জীবনধারার পরিবর্তন জরুরি। নিচে কিছু পরামর্শ দেওয়া হলো:
যা করা উচিত:
• নিয়মিত ব্যায়াম করুন: যোগাসন চর্চা, হাঁটা বা সাঁতার কাটা, যা পিঠ এবং পেটের পেশী শক্তিশালী করবে।
• সঠিক ভঙ্গি বজায় রাখুন: সোজা দাঁড়ান, কাঁধ পেছনে রাখুন এবং হাঁটুরো মুড়িয়ে না দাঁড়ান। বসে থাকলে সঠিক সাপোর্ট দেওয়া চেয়ার ব্যবহার করুন।
• সঠিক উপায়ে কিছু তোলার চেষ্টা করুন: বসে না থেকে হাঁটু ভাঁজ করে কিছু তুলুন।
• পিঠের চাপ কমাতে পাশ ফিরে শুয়ে থাকুন: পায়ের মধ্যে বালিশ দিয়ে শুয়ে থাকলে পিঠে চাপ কমে।
• গরম বা ঠান্ডা প্যাড ব্যবহার করুন: গরম বা ঠান্ডা প্যাড ব্যথা কমাতে সাহায্য করতে পারে।
যা এড়ানো উচিত:
• উচ্চ হিল পরা এড়িয়ে চলুন: উচ্চ হিলের জুতো ভারসাম্য পরিবর্তন করে এবং পিঠের উপর অতিরিক্ত চাপ সৃষ্টি করে।
• দীর্ঘ সময় দাঁড়িয়ে বা বসে না থাকুন: পিঠের পেশীগুলিকে স্বস্তি দিতে মাঝে মাঝে ওঠানামা করুন এবং স্ট্রেচ করুন।
• ভারী কিছু তোলা পরিহার করুন: ভারী কিছু তোলার ফলে পিঠে আরও চাপ পড়তে পারে।
বসার ও দাঁড়ানোর সঠিক ভঙ্গি
গর্ভাবস্থায় পিঠের ব্যথা প্রতিরোধে সঠিক ভঙ্গি বজায় রাখা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। নিচে সঠিকভাবে দাঁড়ানো এবং বসার কিছু সহজ টিপস:
দাঁড়ানো:
• ওজন সমানভাবে বিতরণ করুন: পা কাঁধের প্রস্থে রাখুন এবং ওজন সমানভাবে দুই পায়ে ভাগ করে দাঁড়ান।
• হাঁটু সামান্য বাঁকা রেখে দাঁড়ান, যাতে পিঠে অতিরিক্ত চাপ না পড়ে।
• বিশ্রাম নিন: দীর্ঘ সময় দাঁড়িয়ে থাকলে একটি পা ছোট স্টুলে রেখে বিশ্রাম নিন।
চেয়ার বসা:
• সঠিক চেয়ার ব্যবহার করুন: এমন একটি চেয়ারে বসুন যা পিঠকে যথাযথ সমর্থন দেয়। পিঠে সমর্থনের জন্য ছোট বালিশ ব্যবহার করুন।
• পা মাটিতে সোজা রাখুন: পা মাটিতে সোজা রেখে বসুন, এবং পা একে অপরের উপর না রাখুন।
• বসার অবস্থান সঠিক রাখুন: হাঁটু এবং হিপস 90 ডিগ্রি কোণে রাখুন।
মেঝেতে বসা:
• পা সোজা রাখুন: মেঝেতে বসার সময় পা সোজা করে বা ক্রস করে বসুন, তবে পা একে অপরের উপর না রাখুন।
• তৈরি করুন নরম আসন: একটি নরম প্যাড বা বালিশ ব্যবহার করুন যাতে পিঠের উপর অতিরিক্ত চাপ না পড়ে।
• পিঠ সোজা রাখুন: মেঝেতে বসার সময় পিঠ সোজা রাখুন এবং একে অপরের সাথে সোজা রেখেই বসুন।
• হালকা সাপোর্ট ব্যবহার করুন: যদি প্রয়োজন হয়, পিঠের নিচে একটি ছোট বালিশ বা ঘুরানো প্যাড রাখুন যাতে সোজা বসা সম্ভব হয়।
এই টিপসগুলো পালন করলে গর্ভাবস্থায় পিঠের ব্যথা কমানো যাবে এবং আপনি আরো স্বাচ্ছন্দ্যে এবং সুস্থভাবে থাকতে পারবেন।
গর্ভাবস্থায় পিঠে ব্যথা একটি সাধারণ সমস্যা। তবে কিছু হালকা ও নিরাপদ যোগাসন এই অস্বস্তি কমাতে সহায়তা করে। যে কোন ট্রাইমেসটার্ করা যাবে।
শশাঙ্কাসন, মারজার্যাসন থেকে বিটিলাসন , বদ্ধকোনা আসন , তাড়াসন, আনুভিত্তাসান ইত্যাদি।
অবশ্যই করার আগে একজন ডাকগর্ভকালীন যোগ বিশেষজ্ঞের পরামর্শ নিন।